University of Dhaka Signup Log in
Dwipshika(দ্বীপশিখা)
শিক্ষা
প্রগতি
বন্ধন
১ম সাধারণ সভা

দ্বীপশিখার আনুষ্টানিক পথচলা

IMG

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরুর দিকে একা একা ভীষন অসহায় লাগতো। চাবিতে বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ছাত্র সংগঠন ছিল, কুতুবদিয়ার শিক্ষার্থীদের এমন কোন প্লাটফর্ম ছিল কিনা তখনো জানতাম না। ইংরেজীতে একটি কথা আছে-

"A man who builds wall instead of bridge has no right to complain if he is alone"

অর্থাৎ কেউ যদি সেতুর বদলে প্রাচীর রচনা করে নিসে হয় তাহলে সে অভিযোগ করার অধিকারটিও হারায়। আমার মতো কুতুবদিয়ার যেসব শিক্ষার্থীরা রাজধানী ঢাকার বুকে পড়াশোনা করতে এসেছেন সবাই হয়তো সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। তারই তাগিদে ঢাকাস্থ কুতুবদিয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদ' নামক ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছিল। এক সিনিয়র ভাইয়ের সুবাদে ফেসবুক গ্রুপটিতে যুক্ত হওয়ার কল্যাণে কুতুবদিয়ার অনেক মেধাবীমুখের সাথে পরিচিত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করি। শুরুর দিকে এই গ্রুপটিই ছিল ঢাকাস্থ কুতুবদিয়ার শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। "ঢাকাস্থ কুতুবদিয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদ" নামক ফেসবুক গ্রুপ থেকে আজকের 'দ্বীপশিখা" (কুতুবদিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা) -এর উত্থান ও ক্রমশ সামনে এগিয়ে চলা। দ্বীপশিখার শুরুর দিককার ইতিবৃত্ত জানতে হলে আমাদের একটু পিছনে ফিরে তাকাতে হবে।

বিস্তারিতঃ

ম্যাগাজিন স্মরণিকা-২০১৯ এর পেইজ নং ১৩-১৬

২১শে মে, ২০১৬ ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে তিন থেকে চারফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয় কুতুবদিয়া। এতে কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ও উত্তর দিকের বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে পড়ে। একদিকে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে জনজীবনের চরম বিপর্যয় অন্যদিকে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি অবাধে লোকালয়ে প্রবেশ করতো। এর সপ্তাহখানেক পর ২৭শে মে, ২০১৬ রোজ শুক্রবার, সকাল সাড়ে এগারটা। সূর্যের কড়া রোদ উপেক্ষা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু কবলিত কুতুবদিয়াসহ সকল উপকূলীয় অঞ্চল সুরক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবিতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ইত্যাদি হাতে নিয়ে আমরা মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে যায়।

আমরা দেখেছি অপার সম্ভাবনা কুতুবদিয়া দ্বীপ দিন দিন অবহেলিত থেকে যাচ্ছে, গণমানুষের দাবিসমূহকে উপেক্ষা করা হয়েছে বারবার। আমরা যদি জন্মস্থান কুতুবদিয়ার জন্য টেকসই কিছু করতে চাই তাহলে আমাদেরকে আরো সংঘবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তাবোধ থেকে ঢাকাস্থ কুতুবদিয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদ' কে আরো কার্যকরী ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রদানের লক্ষ্যে আমরা কার্জন হল সংলগ্ন সবুজ চত্বর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনের সবুজ চত্বরে বেশ কয়েক দফা বসে বারবার আলোচনা করি। আলোচনার বিভিন্ন পাবলিক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজে পড়ুয়া ঢাকাস্থ কুতুবদিয়ার শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকতেন। আমরা অনেক সিনিয়র ভাইদেরও পাশে পেয়েছি যারা আমাদের প্রতিনিয়ত উৎসাহ ও পরামর্শ দিতেন। সবার সম্মতি ও মতামতের ভিত্তিতে আমরা সংগঠনের গঠনতন্ত্র রচনা করি এবং সংগঠনের নতুন নাম ঠিক করা হয় দ্বীপশিখা (কুতুবদিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা)।

দ্বীপশিখার শুরু থেকে বর্তমানে এই পর্যন্ত আসার পিছনে যারা অতৃপ্ত-পরিশ্রম, মূল্যবান সময়, পরামর্শ ইত্যাদি নিয়ে আমাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন তাঁদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের জন্য ঋণ স্বীকার কিংবা কৃতজ্ঞতার জালে আবদ্ধ করা আমাদের কাম্য নয়। প্রত্যেকেই দ্বীপশিখার সাফল্যের সমান অংশীদার, দ্বীপশিখার যেটুকু অর্জন তার কৃতিত্ব সকলের।

লেখকঃ

এজাম উদ্দিন

প্রতিষ্টাতা সাধারণ সম্পাদক, দ্বীপশিখা।

সংক্ষিপ্তকরণঃ

সাইমুল হুদা সিদ্দিকী